»স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর বাইশারীতে বিদ্যুতের আলো »৫ ডিসেম্বর শহীদ দৌলত দিবস : জাতীয়ভাবে দিবসটি পালনের দাবি শহীদ পরিবারের »ধর্মপুর দরবার শরীফের পীরের উপর হামলা্ : রামুতে মানববন্ধন : জড়িতদের শাস্তি দাবি »রামুর উখিয়ারঘোনায় আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল উচ্চ বিদ্যালয় ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন »রামুর আল হাবিব লাইব্রেরীর মালিকের বসত ঘর পুড়ে ছাই ॥ ক্ষয়ক্ষতি ৩০ লক্ষ টাকার »বাংলাদেশ ফটোজার্নালিষ্ট এসোসিয়েশনের জাতীয় সম্মেলনে ইকবাল সোবহান »কক্সবাজার রেল লাইন সম্প্রসারণের কাজ তদারকিতে এডিবি ও এম,পি কমল »কক্সবাজার জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাবু পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় যুবলীগের বিশাল সংবর্ধনা »কক্সবাজার স্টেডিয়ামে সাবেক তারকাদের জমজমাট প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ৩০ নভেম্বর »সাংবাদিক তপন চক্রবর্তী বিএফইউজে’র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ায় রামু নিউজ ডট কম’র অভিনন্দন »রামু উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান ভুট্টো’র মায়ের ইন্তেকাল ॥ এমপি কমল ও যুবলীগের শোক »কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের জরুরী সভা ৩০ নভেম্বর »“দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে বিমানে চড়াতে হবে” : সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি »রামুর রশিদনগর ইউনিয়ন যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত »কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমীর উদ্যোগে সুফিয়া কামালের জীবনালেক্ষ্য নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত

মাহে রমযানে প্রয়োজনীয় নিয়ত, দোয়া ও আমল

ড. মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী: শা’বান মাসের শেষে পবিত্র রমযান মাস আসে। আল্লাহ্র প্রেমিক বান্দারা রমযানকে স্বাগত জানাতে নতুন চাঁদ দেখার অপেক্ষায় থাকেন। আকাশের পশ্চিম দিগন্তে নতুন চাঁদ দেখার পর নিম্মের দোয়া পড়লে আল্লাহ্ পাক শান্তি ও সৌভাগ্য দান করেন, ঈমান সালামতে রাখেন।
নতুন চাঁদ দেখার দোয়া
হযরত তালহা বিন ওবাইদুল্লাহ্ হতে বর্ণিত, হযরত নবী করীম-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নতুন চাঁদ দেখতেন, বলতেন:
‘আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল্ আম্নে ওয়াল ঈমান, ওয়াস্ সালামতে ওয়াল ইসলাম, রাব্বি ওয়া রাব্বুকাল্লাহ্’
অর্থ
হে আল্লাহ্! তুমি এই চাঁদকে উদিত কর আমাদের প্রতি নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলাম সহকারে। (হে চাঁদ!) আমার প্রভু ও তোমার প্রভু (এক) আল্লাহ্।
(মিশকাত, বিভিন্ন সময়ের দোয়া, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ দ্রষ্টব্য)।
রোযা রাখার নিয়ম
শা’বান মাসের ২৯ তারিখ সন্ধ্যায় রমযানের নতুন চাঁদ দেখা গেলে অথবা শা’বানের ৩০ তারিখ পূর্ণ হলে পরের রাত হতে পবিত্র রমযান মাস শুরু হয়। ঐ রাতেই তারাবীহ্ নামায পড়তে হয় এবং শেষরাতে সেহরী খেয়ে রোযা রাখতে হয়। সুবহে সাদেক হওয়ার পূর্বেই সেহরী খাওয়া শেষ করতে হবে। এরপর রোযার নিয়ত করতে হবে। অর্থাৎ মুখে বা মনে মনে বলতে হবে যে, আমি আগামীকাল রমযানের ফরয রোযা রাখব।
রোযার নিয়ত
‘নাওয়ায়তু আন আসূমা গাদাম্ মিন্ শাহ্রি রামাযানাল মোবারাক, ফারদান্ লাকা ইয়া আল্লাহু ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নাকা আন্তাস্ সামীউল আলীম’।
অর্থ
“হে আল্লাহ্! আগামীকাল পবিত্র রমযান মাসে তোমার পক্ষ হতে ফরয করা রোযা রাখার নিয়ত করলাম, অতএব তুমি আমার পক্ষ হতে কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।”
রোযার জন্য নিয়ত ফরয ও শর্ত। নিয়ত ছাড়া রোযা হবে না। তবে আরবী নিয়ত উচ্চারণ শর্ত নয়। মনে মনে নিয়ত করলেও হবে। ইমাম গাযযালী (রহঃ) বলেন : “রোযার জন্য নিয়ত করা ফরয। প্রত্যেক রাতেই নিয়ত করতে হবে। অথবা একথা স্মরণ করতে হবে যে, এটি রমযানের রোযা, ফরয রোযা এবং আদায়(কাযার রোযা নয়)। যে মুসলমান এ কথাগুলো স্মরণ করবে, তার দিল নিয়তশণ্য হবে না।” -(কিমিয়ায়ে সাআদাত ১ম খন্ড, পৃ. ১৭৩)
ফিকাহ্বিদগণ বলেছেন যে-রমযান মাসের ফরয রোযার নিয়ত রাতে না করলেও সকাল বেলা দ্বিপ্রহরের পূর্বে করে নিলে চলবে। তার পরে চলবে না।
রোযা রেখে দিনের বেলা করণীয়
রোযা রেখে সুব্হে সাদেকের পর থেকে তিনটি কাজ হতে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে; (১) কিছু খাওয়া, (২) পান করা (৩) যৌন সংসর্গ। এ ছাড়া মিথ্যা বলা. গীবত করাও অশ্লীল কাজকর্ম প্রভৃতি হতে বিরত থাকা চাই। সূর্য ডুবার সাথে সাথে দেরী না করে কিছু খেয়ে রোযা ভঙ্গ করতে হয়। এর নাম ইফতার। খেজুর বা পানি দ্বারা ইফতার করা সুন্নত। ইফতারের সময় আল্লাহ্র দরবারে দোয়া কবুল হয়।
ইফতারের দোয়া
‘আল্লাহুম্মা লাকা সুম্তু ওয়াআলা রিযকিকা আফতারতু।’
অর্থ
“ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার সন্তুষ্টির জন্য রোযা রেখেছি এবং তোমার দেয়া রিযিক আহার করে ইফতার করছি।’’
তারাবীহ নামায
তারাবীহ নামায মাহে রমযানে রোযাদারদের জন্য আল্লাহ্র বিরাট নেয়ামত। যেদিন সন্ধ্যায় রমযানের চাঁদ দেখা যাবে বা শা’বানের ৩০ দিন শেষ হবে, সে রাত হতে পুরো রমযান মাস তারাবীহ পড়া হয়। এশার নামাযের পর তারাবীহ মোট বিশ রাকাত। মসজিদে মসজিদে তারাবীহর জামাত হয়। মহিলারা ঘরে পড়েন।তারাবীহর পর বিতির নামাযও জামাতে পড়া হয়। এটি রমযানের বিশেষ ব্যবস্থাপনা। অন্য সময় বিতির জামাতে পড়ার নিয়ম নেই।
তারাবীহ নামাযের নিয়ত
‘নাওয়াইতু আন্ উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা, রাকাতাই সালাতিত তারাবীহ, সুন্নাতু রাসূলিল্লাহি তাআলা মোতাওয়াজ্জেহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতে আল্লাহু আকবার।’
অর্থ:
আমি কেবলামুখী হয়ে আল্লাহ্র উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ(সলঃ) এর সুন্নত দু’রাকাত তারাবীহ নামায পড়ার নিয়ত করলাম-আল্লাহু আকবর।’’
তারাবীহর দু’রাকাত শেষে পড়ার দোয়া
তারাবীহ নামায(ফজরের সুন্নতের ন্যায়) দু’রাকাত করে পড়তে হয়। দু’রাকাত শেষে একটুখানি বসতে হয়। ওসময় নি¤েœর দোয়াটি পড়া হয়:
‘হাযা মিন্ ফাদলে রাব্বি, ইয়া কারীমাল মারুফে, ইয়া ক্বাদীমাল এহ্সান, আহসিন্ ইলাইনা বি-ইহ্সানিকাল ক্বাদীম, সাব্বিত ক্বুলুবানা আলা দ্বীনিকা বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহেমীন।’
অর্থ :
ইহা আমার প্রভুর অপার অনুগ্রহ। ওহে! যার দয়া অতি প্রসিদ্ধ, যার এহসান (অনুগ্রহ) চিরন্তন। আমাদের প্রতি এহসান কর তোমার চিরন্তন দয়ার ভান্ডার হতে। আমাদের অন্তরকে তোমার দ্বীনের ওপর অবিচল রাখ। তোমার রহমত দিয়ে সদয় হও, হে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু!”
তারাবীহর চার রাকাত শেষে পড়ার দোয়া
তারাবীহ নামায চার রাকাত শেষ করার পর আবারো সামান্য বসতে হয়। ওসময় নি¤েœর দোয়াটি পড়তে হয়। তারাবীহ শব্দের অর্থ বিশ্রাম নেয়া। বিশ্রাম নিয়ে নিয়ে পড়া হয় বলে এর নাম তারাবীহ নামায। কাজেই নামাযের দোয়ায় ও কেরাতে তাড়াহুড়া করা তারাবীহর মেযাজের বরখেলাফ।
‘সোবহানা যিল্ মুলকি ওয়াল মালাকূত, সোবহানা যিল্ ইয্যাতে, ওয়াল আযমাতে, ওয়াল হাইবাতে, ওয়াল কুদরাতে, ওয়াল কিব্রিয়ায়ে ওয়াল জাবারূত। সোবহানাল মালিকিল হাইয়িল লাযি লা ইয়ানামু ওয়ালা ইয়ামূতু, আবাদান্ আবাদা, সুববুহুম্ কুদ্দুস, রাব্বুনা, ওয়া রাব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রূহ।”
অর্থ
“আমি পবিত্রতা বর্ণনা করছি, পৃথিবীর রাজত্বের ও উর্ধজগতের অধিপতির। আমি পবিত্রতা বর্ণনা করছি মর্যাদা, মহানত্ব, মাহাতœ্য, শক্তি, বুজর্গী ও আধিপত্যের মহান অধিপতির। অতি পবিত্র সেই মহান মালিক যিনি চিরঞ্জীব, যিনি ঘুমান না আর মৃত্যূবরণ করেন না, কখনো, কোনকালেই, পরম পবিত্র তিনি। তিনি আমাদের, ফেরেশতাদের ও রূহের (জিব্রাঈলের) প্রভু।’’
তারাবীর মোনাজাত
তারাবীহ নামাযে চার রাকাত পর উপরোক্ত দোয়া শেষ করে বিনয় ও কাকুতি-মিনতি সহকারে নি¤েœর মোনাজাতটি করা হয়।
আল্লাহুমা ইন্না নাসআলুকাল জান্নাতা, ওয়া নাউজু বিকা মিনান্নার, ইয়া খালেকাল জান্নাতে ওয়ান্নার, বিরাহমাতিকা ইয়া আজিজু,ইয়া গাফফার, ইয়া কারিমু, ইয়া সাত্তার, ইয়া রহিমু , ইয়া জব্বার, ইয়া খালেকু , ইয়া বার! আল্লাহুম্মা আজিরনা মিনান্নার, ইয়া মুজিরু, ইয়া মুজিরু, ইয়া মুজির, বেরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহেমীন।’
অর্থ :
“হে আল্লাহ! আমরা তোমার কাছে বেহেশতের জন্য ফরিয়াদ জানাই এবং দোযখের আগুন থেকে তোমার কাছে পানাহ্ চাই-ওহে বেহেশত-দোযখের সৃষ্টিকর্তা। হে ক্ষমতাময়! হে ক্ষমাশীল! হে দয়ালু অসীম! হে দোষ গোপনকারী! হে দয়াবান! হে শক্তিমান! হে সৃষ্টিকর্তা! হে অনুগ্রহকারী আল্লাহ্! প্রভু হে! আমাদের দোযখ থেকে রক্ষা করো-হে রক্ষাকারী, হে রক্ষাকারী, হে রক্ষাকারী-তোমার রহমতের আশ্রয় চাই, হে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।”
তাহাজ্জুদের নামায
রমযানে তাহাজ্জুদের নামায পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার সুবর্ণ সুযোগ। শেষ রাতে সেহরীর জন্য জাগতে হয়। ওসময় তাহাজ্জুদের নামায পড়া যায়। হযরত বড়পীর (রহ:) বলেছেন : আল্লাহ তাআলার কাছ থেকে বাতেনী নেয়ামত লাভ করার উত্তম মাধ্যম তাহাজ্জুদ। আল্লাহ তাআলা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাহিই ওয়াসাল্লামকে নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়ার হুকুম দিয়েছিলেন।
‘আপনি রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করুন। এটা আপনার জন্য অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায়, আপনার পালনকর্তা আপনাকে মাকামে মাহমুদে (প্রশংসিত স্থানে) পৌঁছাবেন।’
(সূরা বনি ইসরাইল : ৭৯)
তাছাড়া তিনি রাত জেগে তাহাজ্জুদ আদায়কারী বান্দাদের প্রশংসা করে বলেছেন:
‘তাদের পার্শ্বদেশ শয্যা থেকে আলাদা থাকে। তারা তাদের পালনকর্তাকে ডাকে ভয়ে ও আশায় এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে।’ (সূরা সজিদাহ ১৬)
তাহাজ্জুদ নামাযের নিয়ত
‘নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা, রাকাতাই সালাতিত তাহাজ্জুদ, সুন্নাতু রাসূলিল্লাহি তাআলা মোতাওয়াজ্জেহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতে আল্লাহু আকবার।’
অর্থ:
আমি কেবলামুখী হয়ে আল্লাহ্র উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ(সলঃ) এর সুন্নত, দু’রাকাত তাহাজ্জুদ নামায পড়ার নিয়ত করলাম-আল্লাহু আকবর।’’
তাহাজ্জুদের নামায ১২ রাকাত। দুই দুই রাকাত করে আদায় করতে হয়। ৮ রাকাত পড়লেও চলবে। সময় না থাকলে ৪ রাকাতও পড়া যায়; এমনকি তাও সম্ভব না হলে অন্তত: দুই রাকাত হলেও আদায় করা দরকার। রাত বারটার পর হতে ফজর (সোবহে সাদেক) এর পূর্ব পর্যন্ত তাহাজ্জুদের ওয়াক্ত।
এশরাকের নামায
সূর্যোদয়ের পর দুই রাকাত করে চার রাকাত এশরাকের নামায আদায় করা উত্তম। যদি চার রাকাত না পারা যায়, অন্তত দুই রাকাত হলেও আদায় করা দরকার। এশরাকের নামায সুন্নত নামাযের নিয়তে পড়তে হয়। সূর্যোদয়ের পর হতে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত এশরাকের নামাযের ওয়াক্ত থাকে। ফজরের সুন্নতের ন্যায় সূরা ফাতেহার পর অন্য যে কোন সূরা মিলায়ে নামায পড়তে হয়।
এশরাকের নামাযের নিয়ত
‘নাওয়াইতু আন্ উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা, রাকাতাই সালাতিল এশরাক সুন্নাতু রাসূলিল্লাহি তাআলা মোতাওয়াজ্জেহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতেÑ আল্লাহু আকবার।’
অর্থ:
আমি কেবলামুখী হয়ে আল্লাহ্র উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ(সলঃ) এর সুন্নত দু’রাকাত এশরাকের নামায পড়ার নিয়ত করলাম-আল্লাহু আকবর।
নবী করিম (সাঃ) এরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের পর ২ রাকাত এশরাকের নামায আদায় করে আল্লাহ্ পাক ঐ দিনের জন্য ঐ ব্যক্তির হেফাজতের জিম্মাদার হয়ে যান এবং তার ছগীরা গোনাহ্ মাফ করে দেয়া হয়।
দোহার নামায
এশরাকের নামাযের ওয়াক্তের পর অর্থাৎ সূর্যোদয়ের ২ ঘণ্টা পর থেকে দ্বিপ্রহর বা সূর্য স্থির হবার আগ পর্যন্ত চাশতের বা দোহা নামাযের ওয়াক্ত। দোহার নামায দু’রাকাত হতে আট রাকাআত পর্যন্ত দুরস্ত। হুজুর আকরম (সাঃ) প্রায়শ চার রাকাতই পড়তেন। অতএব আমাদেরও চার রাকাত পড়াই উত্তম। চার রাকাত বিশিষ্ট সুন্নত নামাযের নিয়মেই দোহা বা চাশতের নামায আদায় করা যায়।
দোহার নামাযের নিয়ত
‘নাওয়াইতু আন্ উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা, রাকাতাই সালাতিদ দোহা, সুন্নাতু রাসূলিল্লাহি তাআলা মোতাওয়াজ্জেহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতেÑ আল্লাহু আকবার।’
অর্থ:
আমি কেবলামুখী হয়ে আল্লাহ্র উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ(সলঃ) এর সুন্নত চার রাকাত চাশতের নামায পড়ার নিয়ত করলাম-আল্লাহু আকবর।’’
আউয়াবিন নামায
মাগরিবের নামাযের পর ছয় রাকাত আউয়াবিনের নামায পড়তে হয়। মাগরিবের নামাযের পর থেকে এশার ওয়াক্তের আগ পর্যন্ত আউয়াবিন নামাযের ওয়াক্ত। দুই দুই রাকাত করে অন্যান্য নফল নামাযের ন্যায় সূরা ফাতেহার পর যে কোন একটি সূরা মিলায়ে পড়তে হয়। তবে কেউ কেউ সূরা ফাতেহার পর প্রথম রাকাতে আয়াতুল কুরছি একবার ও দ্বিতীয় রাকাআতে সূরা ফাতেহার পরে সূরা এখলাছ ৩ বার পড়বার কথা বলেছেন।
আউয়াবীন নামাযের নিয়ত
‘নাওয়াইতু আন্ উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা, রাকাতাই সালাতিল আউওয়াবীন সুন্নাতু রাসূলিল্লাহি তাআলা মোতাওয়াজ্জেহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতে- আল্লাহু আকবার।’
অর্থ:
আমি কেবলামুখী হয়ে আল্লাহ্র উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহঞ্জ(স) এর সুন্নত দু’রাকাত আউয়াবীর নামায পড়ার নিয়ত করলাম-আল্লাহু আকবর।
শবে ক্বদরে করণীয়
এ রাতে নফল নামায, এস্তেগফার, কুরআন শরীফ তেলাওয়াত, তাহাজ্জুদ নামায ও যিকির-আযকারের পর দ্বীন-দুনিয়ার শান্তির জন্যে ও নিজ নিজ (জায়েয) মকসুদ হাসেলের জন্য দোয়া করলে দোয়া কবুল হয়। দোয়া কোন কারণে নিজের হকে কবুল না হলেও অন্যের জন্য দোয়া করলে কবুল হয় এবং সাথে নিজের মকসুদও আল্লাহ পূরণ করে দেন। এ জন্য অপর মুসলমান ভাই; বিশেষতঃ বিশ্বের মজলুম মুসলমানদের জন্য দোয়া করা দরকার। বড় জামাতে দোয়া করার ফযিলত বেশী।
ফুরফুরা শরীফের হযরত শাহ্ মাওলানা আবুবকর সিদ্দিকী (র)-এর আমল অনুযায়ী শবে কদরের নামায, এস্তেগফার, যিকর ও দরূদ শরীফ পাঠের নিয়মাবলী নি¤œরূপ ঃ
প্রথমে মনকে পরিষ্কার করে কালেমায়ে তাইয়েবা পাঠ- ১১ বার।
কালেমা তাইয়েবা
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মোহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’।
অর্থ
আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, হযরত মুহাম্মদ (সল) আল্লাহ্র রাসূল।
তারপর এস্তেগফার ২৫ বার ও দরূদ শরীফ ২৫ বার। এরপর নফল নিয়তে দুই দুই রাকাত করে ১২ রাকাত নফল নামায। প্রথম রাকাতে সূরা ক্বদর (ইন্না আন্যালনা) ১ বার এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা এখলাস ৩ বার। অন্য যে কোন সূরা দিয়েও এ নামায পড়া যায়। এভাবে ১২ রাকাত নামায আদায় করে বসে সূরা ‘ফালাক’ ৩ বার ও সূরা ‘নাছ’ ৩ বার। প্রতি চার রাকাত পর দোয়া ও মোনাজাত করা উত্তম। এরপর দরূদ শরীফ ১০০ বার, এস্তেগফার ১০০ বার, ‘আল্লাহুস সামাদ’ ৫০০ বার ও পুনরায় দরূদ শরীফ ২৫ বার পড়ে আল্লাহ তাআলার আলীশান দরবারে অতিশয় বিনয় ও নম্রতার সাথে দোয়া করতে হয়।
শবে কদরের বিশেষ দোয়া
শবে কদরের রাতে প্রধান কোন দোয়াটি করতে হবে সে মর্মে হযরত আয়েশা (রা) বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম ঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! বলুন, যদি আমি বুঝতে পারি ‘শবে কদর’ কোন রাত্রিতে, তখন আমি কি বলবো ? তিনি বললেন ঃ তুমি বলবে:
আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন্ তুহিব্বুল আফওয়া ফা-ফু আন্নি।
অর্থ
“প্রভু হে! তুমি ক্ষমাশীল, ক্ষমাকে ভালবাস। অতএব আমাকে ক্ষমা কর।” Ñএ হাদীস আহমদ, ইবনু মাজা, তিরমিজী বর্ণনা করেছেন।
ইস্তেগফার
‘আস্তাগ্ফিরুল্লাহা রাব্বি, মিন্ কুল্লে যান্বিঁও, ওয়াআতুবু ইলাইহি, লা-হাওলা ওয়ালা ক্বুউওয়াতা, ইল্লা বিল্লাহিল আলিইয়ীল আযিম।
অর্থ
“আমি আমার প্রতিপালকের কাছে যাবতীয় গোনাহ্ হতে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তওবা করে তাঁর দিকে রুজু হচ্ছি। আল্লাহ্র সাহায্য ছাড়া “ইয়া আল্লাহ! আমাদের সরদার হযরত মুহাম্মদ (স) এবং তাঁর আসহাব (সাথী) ও আওলাদগণের (বংশধর) ওপর দরূদ ও সালাম (রহমত ও শান্তি) বর্ষণ কর।”
রমযান মাসে আমাদের করণীয়
রোযা ও রমযানের ফজিলত সঠিকভাবে পাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রত্যেক রোযাদারের কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত। যেমন :
ক্স পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামায জামাতের সাথে আদায় করা।
ক্স বেশী বেশী কোরআন শরীফ সম্ভব হলে অর্থসহ তেলাওয়াত করা ও দরূদ শরীফ পাঠ করা, কলেমায়ে তাইয়্যেবা ও এস্তেগফার পড়া।
ক্স রমযান মাসের রোযা সম্পর্কিত জরুরী মাসায়েল শিক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য।
ক্স হালাল রুযির মাধ্যমে সেহ্রী ও ইফতার করা। কারণ ইবাদত বন্দেগী কবুল হওয়ার জন্য হালাল রুযি পূর্বশর্ত।
ক্স আত্মীয়-স্বজন বা পাড়া প্রতিবেশীর মাঝে যারা গরীব, অসহায় ও বিধবা, তাদের খোঁজ-খবর নেয়া, তারা যাতে ঠিকভাবে রোযা রাখতে পারে এবং খুশিতে ঈদ করতে পারে সেদিকে নজর রাখা।
ক্স রোযাদারকে সাধ্যমত ইফতার করানো।
ক্স গরীব, মিছকীন, এতিম, অসহায় ও বিধবাদেরকে বেশী বেশী দান-খয়রাত করা।
ক্স হিসাব-নিকাশ করে পুরোপুরি যাকাত আদায় করা। যাকাত বছরের যে কোন সময় দেয়া যায়। কিন্তু রমযান মাসে দেয়া উত্তম।
ক্স ওযুর পূর্বে মিছওয়াক করা ও যথাসম্ভব পাক সাফ থাকার চেষ্টা করা।
ক্স হেকমতের সহিত সৎ কাজের নির্দেশ দেয়া ও অসৎ কাজে বাধা দেয়া এবং অশ্লীলতা, বেহায়াপনা ও অসামাজিক কাজ থেকে নিজকে বিরত রাখা। পরিবার পরিজন ও ছেলেমেয়েদের কোরআন শরীফ তেলাওয়াত, ঠিকমত নামায আদায়, রোযা রাখা প্রভৃতির জন্য তাগাদা দেয়া উচিত। বিশেষত নিজের স্ত্রী, মেয়ে ও মা-বোনদের অসংযমী চলাফেরা পরিত্যাগ করে পর্দাসহকারে চলাফেরা করার উপদেশ দান ও ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ, লজ্জা ঈমানের অঙ্গ। আর প্রত্যেককে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে কেয়ামতের দিন জবাবদিহি করতে হবে।
ক্স গরীব ও সাধারণ লোকেরা যাতে কষ্ট না পায়, সেজন্য অতিরিক্ত মুনাফার উদ্দেশ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর অহেতুক দাম বাড়িয়ে না দেয়া।
ক্স তারাবীহ্ নামায জামাতের সাথে আদায় করার চেষ্টা করা।
ক্স লাইলাতুল ক্বদর পাওয়ার নিয়তে রমযানের শেষ ১০ দিন এ’তেকাফ করা।
ক্স রমযান মাসে বেশী বেশী নফল ইবাদত, নফল নামায ও দরূদ শরীফ পড়া। কারণ এ মাসের একটি নফল ইবাদতের সওয়াব অন্য মাসের ফরয ইবাদতের সওয়াবের সমতুল্য এবং এ মাসের একটি ফরয ইবাদতের সওয়াব অন্য মাসের ৭০টি ফরয ইবাদতের সওয়াবের সমতুল্য।
ক্স সূর্যোদয়ের পরে এশরাকের নামায তারপরে সূর্য স্থির হবার পূর্বে দোহার নামায, মাগরেবের পরে আওয়াবীন নামায পড়া ও শেষ রাতে তাহাজ্জুদের নামাযের অভ্যাস করা।