»স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর বাইশারীতে বিদ্যুতের আলো »৫ ডিসেম্বর শহীদ দৌলত দিবস : জাতীয়ভাবে দিবসটি পালনের দাবি শহীদ পরিবারের »ধর্মপুর দরবার শরীফের পীরের উপর হামলা্ : রামুতে মানববন্ধন : জড়িতদের শাস্তি দাবি »রামুর উখিয়ারঘোনায় আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল উচ্চ বিদ্যালয় ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন »রামুর আল হাবিব লাইব্রেরীর মালিকের বসত ঘর পুড়ে ছাই ॥ ক্ষয়ক্ষতি ৩০ লক্ষ টাকার »বাংলাদেশ ফটোজার্নালিষ্ট এসোসিয়েশনের জাতীয় সম্মেলনে ইকবাল সোবহান »কক্সবাজার রেল লাইন সম্প্রসারণের কাজ তদারকিতে এডিবি ও এম,পি কমল »কক্সবাজার জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাবু পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় যুবলীগের বিশাল সংবর্ধনা »কক্সবাজার স্টেডিয়ামে সাবেক তারকাদের জমজমাট প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ৩০ নভেম্বর »সাংবাদিক তপন চক্রবর্তী বিএফইউজে’র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ায় রামু নিউজ ডট কম’র অভিনন্দন »রামু উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান ভুট্টো’র মায়ের ইন্তেকাল ॥ এমপি কমল ও যুবলীগের শোক »কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের জরুরী সভা ৩০ নভেম্বর »“দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে বিমানে চড়াতে হবে” : সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি »রামুর রশিদনগর ইউনিয়ন যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত »কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমীর উদ্যোগে সুফিয়া কামালের জীবনালেক্ষ্য নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত

পর্যটকদের হাতছানি দিচ্ছে রুপ বৈচিত্রের নৈসর্গিক খাগড়াছড়ি

মুহাম্মদ সাজু,খাগড়াছড়ি: বাংলার এক রুপময় খন্ড পার্বত্য চট্টগ্রাম। স্রষ্টার আপনমনে অপরুপ সাজে সৃষ্ট পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে ঢেউ খেলানো সৌন্দর্য্য, পাহাড়ি ঝর্ণারাজি দেশ-বিদেশের অনেক আকর্ষণীয় স্থানকেও সহজে হারমানাতে পারে। খাগড়াছড়ি জেলার চারদিক ঢেউতোলা সবুজের উঁচু পাহাড়ের দেয়াল। মাঝে মাঝে ব্যস্ত ছোট ছোট শহর ও শহরের প্রবেশ পথের দু’পাশে সবুজের বাঁকে-বাঁকে উঁচু-নিচু, আঁকাবাঁকা কৃষ্ণকালো সর্পিল রাস্তা। অনেক পর্যটকই খাগড়াছড়ি শহরটিকে ছবিতে দেখা নেপালের কাটমুন্ডু শহরের সাথে তুলনা করেন। পাহাড়ের প্রকৃতি প্রতি ঋতুতেই রং বদলায়। বর্ষা এলেতো কথাই নেই। সকাল, দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যা ও রাতে বসে রঙের মেলা। পাহাড়ঘেরা চাঁদনী রাতের দৃশ্যপট ভিন্নমাত্রা এনে দেয়। এই পাহাড় চূঁড়ায় বসে দূর পাহাড়ের বুক চিরে সকালের মিষ্টি সূর্যোদয়, সন্ধ্যায় সব আলোকে ম্লান করে সূর্যাস্তের দৃশ্য সত্যিই অপরূপ। নীল আকাশের সাদা মেঘ, সবুজ পাহাড়ের বাঁকে-বাঁকে মেঘের ভেলা, চেঙ্গী নদীর লাল মাটির ঘোলা পানির টানে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে কোন দ্বিধা থাকেনা। এখানকার গাঢ় সবুজ পাহাড়, কলকলে বয়ে যাওয়া নদী, দূরে ঝিরঝির ঝর্ণা, ওপরে নীল আকাশ, মাঝে মাঝে সাদা মেঘ, বর্ষায় বৃষ্টির রিমিঝিমি শব্দ, রাতের আকাশে চন্দ্র-তারা ও দিনের আলোয় লাল সূর্য মিলেমিশে একাকার। রাতের পাহাড়ে ঝিঁঝিঁ পোঁকা, গোবরে পোঁকা, হরেক রকম ব্যাঙের ডাক আপনাকে নিয়ে যাবে অন্যরকম এক ভৌতিক জগতে। একটু বেখেয়ালি হলে নাম জানা না জানা পোঁকা, মাকড়ঁসা, কোথাও বন্য প্রাণীর হাঁক-ডাকে কখন যে ঘুমিয়ে পড়বেন তা বুঝতেই পারবেন না। প্রভাতে পাহাড়ি পাখ-পাখালির কুঞ্জনে আপনার ঘুম ভাঙবে। প্রকৃতির টানে হাজারো কপোত-কপোতি প্রতিদিন এখানে ভীড় জমায়। দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসে অগণিত পর্যটক।

আবহমান বাংলার সবুজ প্রকৃতির অপরূপ বৈচিত্রের নৈসর্গিক লীলাভূমি এই খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বকোণে এর অবস্থান। বাংলার সুন্দরীকন্যা খ্যাত এই খাগড়াছড়ির উঁচু নিচু অসংখ্য পাহাড় আর পাহাড়ের বুকে নাম না জানা হাজারো গাছের সবুজ পাতায় সজ্জিত পাহাড়কে মনে হয় যেন সবুজের অভয়ারণ্য। আঁকাবাঁকা উঁচু নিচু ঢেউ তোলা সবুজ পাহাড়ের বুকচিরে কালো পিচের সর্পিল রাস্তা বেঁয়ে পথ চলতে চলতে পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্য যে কোন পর্যটকের মন কাড়বে এ কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায়। মাঝখানে সমতল ভূমি আর চারদিকে ঢেউ তোলা সুউচ্চ পাহাড়, দিগন্ত ছোঁয়া  সবুজের সমারোহ, শীতে ফোঁটা চেংগী নদী তীরের কাঁশফুল ও চন্দ্র সূর্যের রুপালী স্পর্শ, নদী, হ্রদ,পাহাড়ি ঝর্ণা সবাইকে যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে। আর এখানে এলে যা যা দেখবেন।

আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র:

সৌন্দর্যের অহংকার খাগড়াছড়ি শহরের প্রবেশ পথ আলুটিলা। জেলা সদর থেকে মাত্র আট কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্র। প্রায় হাজার ফুট উঁচু এ ভূ-নন্দন বিন্দুটি বাংলাদেশের একটি অন্যতম ব্যতিক্রমধর্মী পর্যটন স্পট। খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন, পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়নবোর্ড এর উদ্যোগে আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রে দর্শনার্থীদের বসার জন্য পাকা বেঞ্চ, বিশ্রামের জন্য পাকা ছাউনি, পর্যবেণ টাওয়ার ইত্যাদি করা হয়েছে। এ টিলার মাথায় দাঁড়ালে শহরের ছোটখাট ভবন, বৃ শোভিত পাহাড়, চেঙ্গী নদীর প্রবাহ ও আকাশের আল্পনা মনকে অপার্থিব মুগ্ধতায় ভরিয়ে তোলে। চোখে পড়ে আঁকা বাঁকা উঁচনিচু ঢেউ তোলা সবুজ পাহাড়ের বুক চিরে সর্পিল রাস্তা। পাহাড়ি জুমিয়াদের ছোটছোট মাচার তৈরী জুমঘর আর সড়ক ও জনপথ বিভাগের একটি চমৎকার ডাক বাংলোও রয়েছে এখানে। প্রাকৃতিক নৈসর্গের এ স্থানটিকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে এখানে ইকোপার্ক স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে। আলুটিলা থেকে খাগড়াছড়ি শহরকে দেখলে মনে হবে এ যেন কল্পনার দার্জিলিং।

আলুটিলার রহস্যময় গুহা ও রিছাং ঝর্ণা:

গা ছমছম করা অনভূতি নিয়ে পাহাড়ি সুরঙ্গ পথ বেঁয়ে পাতালে নেমে যাওয়া কল্পনার হলেও আলুটিলার সুরঙ্গ কল্পনা নয় বাস্তব। পাহাড়ের পাদদেশ বেঁয়ে গুহার মুখ পর্যন্ত যেতে দর্শনার্থীদের এক সময় খুব কষ্ট হলেও এখন জেলা পরিষদের অর্থায়নে সেখানে পাকা সিঁড়ি করে দেয়া হয়েছে। পাহাড়ের চূঁড়া থেকে ২৬৬টি সিঁড়ি বেঁয়ে নীচে নেমেই সেই স্বপ্নীল গুহামুখ। আলুটিলা সুরঙ্গের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮২ ফুট। জমকালো অন্ধকার এ গুহায় আগুনের মশাল নিয়ে ঢুকতে হয় কিছুটা সাহসের সাথেই। গুহার ভেতরে প্রবেশ করলে এক অপরূপ প্রতিচ্ছবি ভেঁসে উঠে। ভেতরে হাজার হজার বাদুর ঝুলে থাকার দৃশ্যও চোখে পড়ারমতো। এছাড়াও শিরশির ছন্দে হিম শীতল ঝরণার স্বচ্ছ পানি। অনবদ্য রহস্যের উৎস প্রাকৃতিক এ সুরঙ্গের ভেতরটা দেখলে অবিশ্বাস্য বিস্ময়ে হতবাক হতে হয় যে কাউকেই। মনে হয় যেন নিখুঁতভাবে ছেনী দিয়ে পাহাড় কেটে কয়েক হাজার দ কারিগর মিলে এ গুহাটি তৈরী করেছে। এ গুহায় প্রবেশ করে অন্য প্রান্ত দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতায় আপনিও হতে পারবেন দুঃসাহসিক এক অভিযাত্রী। এমন দুঃসাহসিক অভিযাত্রী হওয়ার সুযোগ আর কখনোই আপনার হয়তোবা হয়ে উঠেনি। আলুটিলা পাহাড়ের একটু দূরেই রয়েছে রিছাং নামক পাহাড়ি ঝর্ণা। দেখে আসতে পারেন সে সুউচ্চ মনোরম ঝর্ণাটিও।

দেবতা পুকুর:

জেলা সদর থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দেিণ খাগড়াছড়ি মহালছড়ি সড়কের কোল ঘেষে মাইসছড়ি এলাকার নুনছড়ি মৌজার আলুটিলা পর্বতশ্রেণী হতে সৃষ্ট ছোট্ট নদী নুনছড়ি। নুনছড়ি নদীর ীণ স্রোতের মাঝে প্রকান্ড পাথর। স্বচ্ছ জলস্রোতে স্থির পাথরকে মোহিত করে, প্রকৃতির অপূর্ব সাজে মুগ্ধতায় শিহরিত হয় মন। সমুদ্র সমতল হতে প্রায় সাত’শ ফুট উচ্চতায় পাহাড়ের চূঁড়ায় দেবতা পুকুর রূপকথার দেবতার আর্শিবাদের মতো সলিল বারির স্রোতহীন সঞ্চার। পাঁচ একর আয়তনের এ পুকুরটির স্বচ্ছ জলরাশির মনভোলা প্রশান্তি মূহুর্তের মাঝে পর্যটকদের উদাসীন করে তুলতে পারে। পুকুরের চারিদিকে ঘন বন, যেন সৌন্দর্যের দেবতা বর নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কথিত আছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের জলতৃষ্ণা নিবারণের জন্য স্বয়ং জলদেবতা এ পুকুর খনন করেছেন। পুকুরের পানিকে স্থানীয় পাহাড়িরা দেবতার আর্শীবাদ বলে মনে করে। প্রতিবছর চৈত্র সংক্রান্তিতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অজস্র নরনারী পূন্য লাভের আশায় দেবতা পুকুর দর্শনে আসেন।

পর্যটন মোটেল ও হেরিটেজ পার্ক :

নির্মাণ শৈলীর এক অপূর্ব নির্দশন খাগড়াছড়ি পর্যটন মোটেল। এ মোটেলটি শহরের প্রবেশ মুখেই, পাশে বয়ে গেছে চেঙ্গীর শান্ত স্রোত। কোন এক পূর্নিমার রাতে চাঁদের নরম আঁলোয় নিজেকে বিলিয়ে দিতে চাইলে খাগড়াছড়ি পর্যটন মোটেলের বিকল্প নেই। ৬.৫০ একর জমির উপর নির্মিত এ মোটেলে মোট ক সংখ্যা ২৫টি। তন্মধ্যে ১৫টি নন এসি ক, ৯টি একে ক, ও ১টি ভিআইপি স্যুট। ১০০ আসন বিশিষ্ট কনফারেন্স ক ছাড়াও এখানে আছে ৫০ আসনের চমৎকার রেষ্টুরেন্ট।

দূর পাহাড়ের কোল ঘেষে সর্পিল প্রবাহ নিয়ে বয়ে যাওয়া চেঙ্গী নদীর পারে জেলা আনসার ও ভিডিপি প্রশিণ কেন্দ্রের উঁচু পাহাড়ে অবস্থিত হেরিটেজ পার্ক এখন অনেকের নতুন ঠিকানা, নতুন পর্যটন কেন্দ্র। পর্যটন মোটেলটির বিপরীত পাশেই রয়েছে নান্দনিক হেরিটেজ পার্কটি। এখানকার প্রকৃতি ক্ষনে ক্ষনে রং বদলায়। সকাল, দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যা ও রাতে এখানে বসে রঙের মেলা। পাহাড় ঘেরা এ প্রকতিতে বসে চাঁদনী রাতের দৃশ্যপট ভিন্ন মাত্রা এনে দেয়। এখানে বসে জেলার সর্বোচ্চ পাহাড় চূঁড়া আলুটিলা একপলকে দেখে সেখানে পাখির মত ডানা মেলে উড়ে যেতে ইচ্ছে হবে সবার। এই পাহাড় চূঁড়ায় বসে দূর পাহাড়ের বুক চিরে সকালের মিষ্টি সূর্যোদয়, সন্ধ্যায় সব আলোকে ম্লান করে সূর্যাস্তের দৃশ্য সত্যি অপরূপ। হেরিটেজ পার্কের পেভিলিয়নে বসে চেঙ্গী নদী ও আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের সৌন্দর্য্য সত্যিই মন ছুঁয়ে যায়। ১০ একর ভূমিতে হেরিটেজ পার্কটি গড়ে উঠেছে।

ভগবান টিলা :

জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলা থেকে সোজা উত্তরে ভারতের সীমান্তবর্তী ভগবান টিলা। জেলা সদর থেকে এর কৌণিক দূরত্ব আনুমানিক ৮৫ কিলোমিটার (উত্তর পশ্চিমে)। ঘন সবুজের ভিতর আঁকাবাঁকা রাস্তা দিয়ে এগোলে পাহাড়ের অপরুপ নৈসর্গে অপলক নেত্র ততই বিস্ময় বিহবল হবেই। এ টিলা যেন বিধাতার নিজ হাতে গড়া পর্বত রূপসী। সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় এক হাজার ছয়’শ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এ টিলা সম্পর্কে স্থানীয়দের ধারণা, এ উঁচু টিলায় দাঁড়িয়ে ডাক দিলে স্বয়ং স্রষ্টাও ঐ ডাক শুনতে পান। আর তাই প্রাচীন লোকজন এ টিলার নামকরণ করেছিলেন ভগবান টিলা। সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’র  একটি আউট পোষ্টও আছে এখানে। সুউচ্চ পর্যবেণ টাওয়ারে দাঁড়ালে মনে হয় আপন অস্তিত্ব শূন্যে হারিয়ে গেছে। ঘন সবুজ বাঁশের ঝোপ, নাম না জানা পার্থিব ডাক, পাহাড়ের নিচ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝর্ণার কল্কল্ জীবন্ত শব্দ সবকিছু মিলিয়ে যেন  হারিয়ে যাওয়ার এক অনন্য স্বপ্নপূরী।

বিডিআর এর জন্মস্থান রামগড় :

খাগড়াছড়ি জেলার অন্যতম আকর্ষনীয় প্রাচীন সীমান্ত শহর রামগড়। রামগড় শহরেই সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর অগ্রযাত্রা। সেজন্য রামগড়কে বিডিআর এর জন্মভূমি বলা হয়। বহু স্মৃতি বিজড়িত এ সীমান্ত শহর এবং স্মৃতিস্তম্ভ, বাংলাদেশ ভারত বিভক্তকারী ফেনী নদীর দৃশ্যাবলী খুবই মনমুগ্ধকর। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডেরও অর্থায়নে উপজেলা পরিষদের সামনে নতুন করে গড়ে তোলা হয়েছে পর্যটন স্পট। রাঙ্গামাটির আদলে নির্মিত ঝুলন্ত ব্রীজ, বোটানিক্যাল গার্ডেন, কৃত্রিম লেক, দৃষ্টিনন্দিত স্মৃতিস্তম্ভ, শহীদ মিনার সব কিছু মিলিয়ে হঠাৎ করে রামগড়কে ইউরোপের কোন একটি সিটির মত মনে হয়।

সীমন্তবর্র্তী রামগড় চা বাগান ও রামগড় লেক:

জেলার রামগড়ে সীমান্তের গা ঘেঁষে খাগড়াছড়ি-ফেনী সড়কের দু’ধারে গড়ে উঠেছে বিশাল চা বাগান। যা খাগড়াছড়ির পর্যটন শিল্পকে করেছে স্বয়ং সম্পূর্ণ। খাগড়াছড়িতে আসা ভ্রমন পিপাসু পর্যটকদের স্বাগত জানাতে এটি সদা প্রস্তুত। বিশাল এলাকা জুড়ে এই চা বাগানে আসলে পর্যটকরা বুঝতেই পারবে না তারা সিলেটে আছেন না খাগড়াছড়িতে। জেলা সদর হতে ৫০ কি.মি. উত্তর-পশ্চিমে রামগড় উপজেলা। উপজেলা চত্বরের সম্মুখে অবস্থিত ইংরেজি অর ডব্লিউ-এর অনুরূপ প্রায় ২৫০ মিটার লম্বা একটি হ্রদ। এতে আনন্দ ভ্রমণের জন্য রয়েছে ছোট-বড় বেশ কয়েকটি প্রমোদ তরী। রামগড় পর্যটন লেকটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং দৃষ্টিনন্দন। চারপাশ বাঁধানো লেকটি রেলিং ঘেরা এবং বাহারি সাজে সজ্জিত। লেকের উভয় পাশে যোগাযোগের জন্য মাঝখানে রয়েছে সুদৃশ্য ঝুলন্ত সেতু । লেক ঘুরে বেড়ানোর জন্য রযয়েছে সুন্দর বাগান, সবুজ ঘাস, আধুনিক লাইটিং, শান বাঁধানো সিঁড়ি। লেকের দুই তীরে রয়েছে মনোমুগ্ধকর উদ্যান। উদ্যানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের শোভাবর্ধনকারী ও ঔষুধি-গাছপালা রয়েছে। এ উদ্যানে আগত দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য রয়েছে ১২টি শেড। লেকের ঠিক মদ্যখানে একটি ঝুলন্ত ব্রীজ।

মানিকছড়ির রাজবাড়ী :

খাগড়াছড়ি জেলার অন্যতম দশর্নীয় স্থান মানিকছড়ি মংসার্কেল চীফ (মংরাজা) এর রাজবাড়ী এবং রাজত্বকালীন স্থাপত্য। রাজার সিংহাসন, মূল্যবান অস্ত্রশস্ত্রসহ প্রত্নতাত্ত্বিক অনেক স্মৃতি বিজড়িত এই রাজবাড়ী। মংরাজার উত্তারাধিকার সূত্র নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ ও জটিলতার কারণে রাজবাড়ীটি আজ চরম অবহেলিত।

পাহাড়ী কৃষি গবেষনা কেন্দ্র :

খাগড়াছড়ি শহর থেকে মাত্র তিন কি.মি. পূর্বেই কৃষি গবেষণা কেন্দ্র। সবুজের অকৃপণ সমারোহ আর স্বপ্নীল আবেশে যদি নিজেকে ভুলাতে চান তবে কৃষি গবেষণা কেন্দ্রই আদর্শ স্থান। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপার লীলাভূমি এ কেন্দ্রটিতে প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী ভীর জমায়।

শতায়ু বর্ষী বটগাছ :

মাটিরাঙ্গা উপজেলার খেদাছড়ার কাছাকাছি এলাকায় এ প্রাচীন বটবৃটি শুধু ইতিহাসের সাক্ষী নয় এ যেন দর্শনীয় আশ্চার্যের কোন উপাদান। পাঁচ একরের অধিক জমির উপরে এ গাছটি হাজারো পর্যটকের কাছে দারুণ আকর্ষনীয়। মূল বটগাছটি থেকে নেমে আসা প্রতিটি ঝুড়িমূল কালের পরিক্রমায় একটি নতুন বটবৃক্ষে পরিণত হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয়- ঝুড়িমূল থেকে সৃষ্ট প্রতিটি বটগাছ তার মূলগাছের সাথে সন্তানের মতো জড়িয়ে আছে। কথিত আছে, এ বটবৃরে নিচে বসে শীতল হাওয়া গায়ে লাগালে মানুষও শতবর্ষী হয়।

ঠান্ডা ছড়া :

খাগড়াছড়ি কৃষি গবেষণার উল্টো দিকে খাগড়াছড়ি আদর্শ বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে কিছুদূর হেঁটে গেলে একটি পাহাড়ি ছোট নদী। হাটু পানির এই নদী ধরে পূর্বদিকে আরো পাঁচ মিনিট হাটলে হাতের ডান দিকে পাহাড় থেকে আসা ছোট ছড়াটিকে দেখতে অনেকটা ড্রেনের মত মনে হবে। দু’দিকে পাহাড় মাঝখানে চিকন ছড়া, উপরে নানা জাতের গাছের ছাউনি। সব মিলিয়ে একটি সুরঙ্গ পথের মতো। ধীর গতিতে পা টিপে টিপে ছড়ার ভিতর ঢুকতে হবে। ছড়ার শেষ মাথায় পৌঁছাতে কমপে তিন ঘন্টার মতো সময় লাগবে। পুরো ছড়াটি দেখতে হলে সকালেই এই স্পটটিতে পৌঁছাতে হবে এবং সঙ্গে দুপুরের খাবার নিতে হবে। ছড়াটির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল গরমের দিনে এর পানি ফ্রিজের মত ঠান্ডা থাকে। তাই এর নামকরণ করা হয়েছে ঠান্ডা ছড়া।

দীঘিনালায় শিবছড়ি পাহাড় :

সৌন্দর্য্যরে আরেক নাম শিবছড়ি পাহাড়। এটি দীঘিনালা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৬ কি.মি. দূরে দেওয়ানপাড়া এলাকায় অবস্থিত। ছড়া, নালা, গভীর অরণ্য পেরিয়ে বোয়ালখালী নদীর পাশ ঘেঁষে সুউচ্চ পাহাড়ি ঝর্ণা ও সৌন্দর্য্যমন্ডিত বিভিন্ন পাথরের রূপ পর্যটকদের আকৃষ্ট করতেই হবে। এাছাড়া শিবছড়ি পাহাড়ের ৩ কি.মি. দূরে সবুজ পাহাড়ের পাদদেশে রয়েছে ১১ হাত লম্বা ৩৯ হাত চওড়া দুইটি স্বল্প আকৃতির কৃষ্ণের শীলা আসন।

হাতির মাথা আকৃতির পাহাড়:

প্রকৃতির আরো এক রহস্য হাতির মাথা আকৃতির পাহাড়। খাগড়াছড়ির পেরাছড়ার এ পাহাড়টিকে দেখতে হাতির মাথার মতো মনে হয়। কয়েকটি ছোট ছোট পাহাড় পার হয়ে ৩০/৩৫ ফুট উচ্চতার এই পাহাড়টিকে দেখতে হয় বাঁশের সিঁড়ি বেয়ে। এই বাঁশের সিঁড়িতে উঠলে মনে হবে আপনি হাতির শুর বেঁয়ে উঠছেন। হাতির মাথায় উঠার পর দেখবেন প্রকৃতি কতো অপরূপ হতে পারে।

এছাড়াও জেলার পানছড়িতে রয়েছে দৃষ্টিনন্দিত এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৌদ্ধমূর্তি। জায়গাটি অরণ্য কুটির নামেই বেশ পরিচিত। দিঘীনালার তৈদু ছড়ায় রয়েছে আকর্ষনীয় তৈদু ঝর্ণা।

কিভাবে আসবেন :-

ঢাকা হতে খাগড়াছড়ির দূরত্ব ৩১৬ কি.মি. ও চট্টগ্রাম হতে ১০৯ কি.মি.। ঢাকা থেকে রয়েছে শ্যামলী পরিবহন, এস আলম, সৌদিয়া, ঈগল ও শান্তি পরিবহনের বিলাসবহুল বাস। এসব পরিবহনের টিকেট কাউন্টার রয়েছে, কমলাপুর, ফকিরাপুল, গাবতলী ও সায়দাবাদে। আপনি ইচ্ছে করলে ডে কোচ অথবা নাইট কোচে আসতে পারেন খাগড়াছড়িতে।

চট্টগ্রাম থেকে আসতে হলে আপনাকে অক্সিজেন অথবা কদমতলী বাস টার্মিনাল থেকে গাড়ীতে উঠতে হবে। অক্সিজেনে রয়েছে শান্তি পরিবহন (রিজার্ভবাস)  অথবা লোকাল বাস আর কদমতলীতে বিআরটিসির রিজার্ভ বাস।

কোথায় থাকবেন:

খাগড়াছড়ি শহরের প্রবেশমুখে চেঙ্গী নদীর পারে অবস্থিত পর্যটন মোটেলটি। এখানে ডাবল রুম নন এসি ১০৫০/=, ডাবল এসি রুম ১৫০০/=, ভিআইপি সুইট রুম ২৫০০/= ও সিঙ্গেল রুম ৩০০/=, এসি রুম ৬০০/=, ডাবল নন এসি ৫০০/=, সিঙ্গেল রুম ২০০/=। এছাড়া আরও কম মূল্যে খাগড়াছড়ি শহর এলাকায় রয়েছে হোটেল শৈল সুবর্ণা, ইকোছড়ি ইন, ফোর স্টারসহ বেশ কিছু আবাসিক হোটেল।