»স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর বাইশারীতে বিদ্যুতের আলো »৫ ডিসেম্বর শহীদ দৌলত দিবস : জাতীয়ভাবে দিবসটি পালনের দাবি শহীদ পরিবারের »ধর্মপুর দরবার শরীফের পীরের উপর হামলা্ : রামুতে মানববন্ধন : জড়িতদের শাস্তি দাবি »রামুর উখিয়ারঘোনায় আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল উচ্চ বিদ্যালয় ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন »রামুর আল হাবিব লাইব্রেরীর মালিকের বসত ঘর পুড়ে ছাই ॥ ক্ষয়ক্ষতি ৩০ লক্ষ টাকার »বাংলাদেশ ফটোজার্নালিষ্ট এসোসিয়েশনের জাতীয় সম্মেলনে ইকবাল সোবহান »কক্সবাজার রেল লাইন সম্প্রসারণের কাজ তদারকিতে এডিবি ও এম,পি কমল »কক্সবাজার জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাবু পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় যুবলীগের বিশাল সংবর্ধনা »কক্সবাজার স্টেডিয়ামে সাবেক তারকাদের জমজমাট প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ৩০ নভেম্বর »সাংবাদিক তপন চক্রবর্তী বিএফইউজে’র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ায় রামু নিউজ ডট কম’র অভিনন্দন »রামু উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান ভুট্টো’র মায়ের ইন্তেকাল ॥ এমপি কমল ও যুবলীগের শোক »কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের জরুরী সভা ৩০ নভেম্বর »“দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে বিমানে চড়াতে হবে” : সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি »রামুর রশিদনগর ইউনিয়ন যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত »কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমীর উদ্যোগে সুফিয়া কামালের জীবনালেক্ষ্য নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত

“দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে বিমানে চড়াতে হবে” : সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি

MP-Komolসাইফুল্লাহ সাদেক: দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে বিমানে চড়াতে হবে জানিয়ে কক্সবাজার সদর-রামু-৩ আসনের জাতীয় সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল বলেছেন, তাদেরকে যদি আমরা সময়ের সাথে সাথে বিমানে উঠাতে না পারি তাহলে কোন বিমান সংস্থারই ভালো ব্যবসা করা সম্ভব হবে না। দেশের প্রায় ৭০ভাগ মানুষ মধ্যবিত্ত। তাদেরকে সহজলভ্যে এবং সহজে বিমানে চড়ে দ্রুত যাতায়াতের সুব্যবস্থা এয়ারলাইন্সগুলোর করা উচিত।
২৭নভেম্বর, শুক্রবার বেসরকারি এয়ারলাইন্স ইউএস বাংলার ‘কাস্টমার সাকসেস সামিট কক্সবাজার-২০১৫”-এ এক বক্তৃতায় সাংসদ কমল এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দুটি বিমানের জন্য যে সেটআপ, ১০টি বিমানের জন্য একই সেটআপ। দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে বিমানে তুলতে পারলে আপনার এখন যে ৩টি বিমান তা ১০টিতে বৃদ্ধি করতে পারবেন’।
কমল বলেন, আমি ইউএস বাংলার একজন নিয়মিত যাত্রী। কিন্তু কক্সবাজারে যখন আসতে চাই তখন ঠিকঠাক মতো ইউএস বাংলা পাওয়া যায় না। মানুষ চায় কক্সবাজার থেকে সকাল ১০টার মধ্যে ঢাকায় পৌঁছে সারাদিন কাজ সেরে আবার সঠিক সময়ে ফিরে আসতে। তেমনি ঢাকা থেকে সকাল ৯টার মধ্যে কক্সবাজারে আসতে পারলে সারাদিন কক্সবাজার ঘুরে, দেখে আবার সঠিক সময়ে ফিরে যেতে পারে। কিন্তু ইউএস বাংলার সময় তেমনটা হচ্ছে না। যখন ঢাকা থেকে রওয়ানা দেয়, দিনের অর্ধেক চলে যায়। আবার যখন কক্সবাজার থেকে ঢাকা থেকে রওয়ানা দিতে চায় তখনও দিনের অর্ধেক চলে যায়। আমার এদিকেও কোন কাজ হয় না, ওদিকেও কোন কাজ হয় না।
তিনি বলেন, একারণে কর্তৃপক্ষকে আমি অনুরোধ করবো, আপনারা সকাল ৯টার মধ্যে ঢাকার মানুষকে কক্সবাজারে আর ১০টার মধ্যে কক্সবাজারের মানুষকে ঢাকায় পৌঁছে দিন। যাতে সারাদিন কক্সবাজার সম্পর্কে মানুষ জানতে পারে, ঘুরতে পারে। এমপি হিসেবে নয়, একজন সামান্য যাত্রী হিসেবে বলছি’।
ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষকে লক্ষ্য করে পর্যটন নগরীর এই সাংসদ বলেন, যখন টিকেট কিনতে যাই ৫হাজার টাকা, আবার যখন টিকেট কিনতে যাই ৬হাজার টাকা, তারপর শুনি ১০হাজার টাকা। এটা কেন হবে? এটি শুধু ইউএস বাংলার ক্ষেত্রে নয়, সবক্ষেত্রে।
তিনি বলেন, আমরা যাত্রী। যারা বিমানে চলাচল করেন তাদের কাছে সময়টাই মূল্যবান। বিলাসিতা করার জন্য নয়। আমাদের প্রতি সপ্তাহে ঢাকায় যেতে হয়। সময় বাঁচানোর জন্যই আমরা বিমানে যাই। তাই আপনারা যদি শুধু ব্যবসায়ীক কৌশলের দিকে চিন্তা না করে, জনসাধারণের উপকারের কথাও চিন্তা করেন, তাহলে কিন্তু সেবার মান বাড়বে যাত্রীও বাড়বে’।
কমল বলেন, কক্সবাজারে যে ৪৬৩টি হোটেল আছে প্রত্যেকে কিন্তু নিজের জমানো টাকা, জমি বিক্রি টাকা অথবা ১৭% সুদ দিয়ে তারা এই হোটেলগুলো তৈরি করেছেন। একারণে তারা যখন ১হাজার, ২হাজার টাকা দিয়ে রুম ভাড়া দিলে ব্যাংকের কাছে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে। ফলে পর্যটন মৌসুমে তারা ভাড়া ৫হাজার ৬হাজার ১০হাজারও করতে বাধ্য হন। এক্ষেত্রে সরকার হোটেল মালিকদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের আওতায় সহজে ঋণের ব্যবস্থা করতে পারে’।
তাঁর মতে, হোটেল ব্যবসায় মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য সহজলভ্য করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা এই শিল্পকে মধ্যব্তিত শ্রেণির আয়ত্তে আনতে পারবো না, ততোদিন পর্যন্ত পর্যটন বিকাশ ঘটবে না’। এর জন্য তিনি পর্যটন মন্ত্রীর কাছে মৎস্য শিল্প বিকাশে যেভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণের ব্যবস্থা করেছিলেন, একইভাবে পর্যটন শিল্পের বিকাশে তা করার প্রস্তা দেন। তিনি বলেন, হোটেল-মোটেল মালিকদের সেভাবে ঋণ দিন। ৮বছর পর যে ঋণ শোধের ব্যবস্থা করা হবে। সেক্ষেত্রে আর আর হোটেলের ভাড়া বৃদ্ধি হবে না’।
সাংসদ আরো বলেন, হোটেল ব্যবসায়ীরা এখন মরে যাচ্ছে। কারণ এখানে যথেষ্ট হোটেল হয়ে গেছে। যে সরকারই আসে তাদেরকে অনেক প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু অস্তির অবস্থার কারণে তার কিছুই হয়ে উঠে না। ফলে পর্যটন শিল্পও বিকশিত হয় না। আমরা আত্মতুষ্টিতে ভুগি এই বলে যে, আমাদের সুন্দর সাগর রয়েছে, পাহাড় রয়েছে। সুন্দর সুন্দর হোটল রয়েছে। অথচ এবিষয়গুলোকে আমরা সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারছি না-বলেন কমল।
তিনি বলেন, নিরাপত্তার প্রশ্ন উঠে। নিরাপত্তার জন্য আমি যে টিআর পেয়েছি সেখান থেকে ৫টি পয়েন্ট ৭০টির মতো সিসি টিভি চালু করেছি। এখানে বিদেশি পর্যটকরা আসবে। তারা কাদের সাথে কথা বলবে? একারণে এখানে টমটম, সিএনজি-রিক্সা চালকদের জন্য ইংলিশ স্পোকেন স্কুলের ব্যবস্থা করেছি। এটির জন্য আমি জায়গা খুঁজে বেড়াচ্ছি। একটি সার্ফার ক্লাব করার চেষ্টা করছি। তার জন্য শুধুমাত্র ২শতক জমি খুঁজে বেড়াচ্ছি। এখনো পাইনি। একাজগুলো তড়িৎগতিতে শেষ করতে না পারলে কক্সবাজারে পর্যটকরা আসবে না আশঙ্কা প্রকাশ করেন সাংসদ।
তাছাড়া হিমছড়িতে যে পাহাড় আছে পুরোটাই এখনো বন বিভাগের অধীন জানান কমল। তিনি বলেন, বনবিভাগ সেখানে কাউকে যেতে দিচ্ছে না। এটি বনবিভাগের দরকার নেই। এটি নিয়ে যদি আমরা পর্যটনে ব্যবহার করি তাহলে ভালো হবে। আমরা সেনানিবাস নির্মাণের জন্য ২হাজার একর জমি নিয়েছি। পর্যটন বিকাশের জন্য আরো ২হাজার একর জমি ডিফরেস্ট করতে পারবো না কেন? এটি না করলে কক্সবাজারে সৌন্দর্য বাড়বে না-জানালেন এমপি কমল।
সারা দেশর ট্রাভেল এজেন্সির মালিকদের উদ্দেশে কমল আহ্বান করেন, আপনারা অনেক অভিজ্ঞ, অনেকের অভিজ্ঞতা এক্ষেত্রে ৩০ বছর, ৩৮বছর। আপনারা বিভিন্ন প্যাকেজে বিদেশে পর্যটক পাঠিয়ে থাকেন। একইভাবে কক্সবাজারেও পর্যটক পাঠান। আপনারা পর্যটক না পাঠালে আমাদের পানের দোকানদার, রিক্সা, টমটম চালক সবাই কিন্তু এখানে কষ্টে পড়ে যাবে। আর একটি কথা, আপনাদের কথাগুলো আমরা শিখছি। আমাদের কথাগুলোও আপনাদের শিখতে হবে। আমরা কিন্তু এখানে সবসময় ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে পারবো না। আমাদের পানের দোকানদের কথা, রিক্সা চালকদের কথা আপনাদের মাধ্যমে বিদেশিদের বুঝাতে হবে, শেখাতে হবে।
কক্সবাজারবাসীর উদারতার কথা বর্ণনা করে কমল বলেন, কক্সবাজারের মানুষ কারো কাছে কোনদিন চাঁদা চায় না। এখানে কোন চাঁদাবাজি নেই। এখানে কোন মাস্তানি নেই। আমরা কিন্তু কসমোপলিটন। আমাদের পূর্বপুরুষরা কেউ মধ্যপ্রাচ্য, কেউ বার্মা থেকে এসেছেন। আমরা রাখাইন, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান মুসলমান সবাই মিশ্রণ জাতি হয়েও কিন্তু শান্তিপূর্ণভাবে একত্রে বাস করছি। কক্সবাজারের মানুষ অনেক ভালো, উদার।
তিনি বলেন, কক্সবাজারকে ঢাকা থেকে দেখলে হবে না। কক্সবাজারে অনেক সাংবাদিক আছে। ফটো, টিভি সাংবাদিক আছেন। যারা কক্সবাজার চিনে, জানে। কক্সবাজার সম্পর্কে ছবি তোলে। আপনারা যখন বিদেশে ট্যুরের ব্যবস্থা করেন তখন কক্সবাজারের যদি ২/৩ জন সাংবাদিক সাথে নিয়ে যান তাহলে তারা কক্সবাজার সম্পর্কে মানুষকে বলবে, বুঝাতে পারবে। কক্সবাজারের মানুষই কক্সবাজারকে ফোকাস করতে পারে, টাঙ্গাইলে, সিলেটের, দিনাজপুরের মানুষ তো কক্সবাজারকে ফোকাস করতে পারবে না।
হোটেল-মোটেলের মালিকদের কমল আহ্বান জানান, সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে একটি অনুরোধ থাকবে, আপনারা যে যার হোটেলের সামনে নিরাপত্তা ক্যামেরা বসিয়ে দিন, এর মাধ্যমে পর্যটকদের আপনার নিরাপত্তা দিন। তবেই হোটেল ব্যবসা সফল হবে। যে সমস্ত হোটেল ক্যামেরা থাকবে না আমরা বিলবোর্ডের মাধ্যমে জানিয়ে দেবো যেন কেউ সেই হোটেলে না উঠে। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা নিরাপত্তা দিতে পারবো না ততোক্ষণ কক্সবাজার বদনাম কুড়াবে- যোগ করেন সাংসদ কমল।

অভিনেত্রী নওশিনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খানন মেনন এমপি, বিশেষ অথিতির বক্তব্য রাখেন একই মন্ত্রনালয়ের সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরী, কক্সবাজার সদর-রামু-৩ আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, সিভিল এভিয়েশন এর চেয়ারম্যান এম সানাউল হক, বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডিয়ান হাই কমিশনের চার্জ দ্য এফেয়ার্স ক্রিস্টিয়ান টারডিফ। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স-এর কর্মবর্তাবৃন্দ।

CoxsbazarNews.com (CBN)